:

জামায়াতের বহিস্কৃত এমপি: আপাতত নির্বাচন কমিশনের কিছুই করার নেই--নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ

top-news

নৈতিক স্খলন জনিত করাণে    জমায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম'র বিষয়ে আপাতত: নির্বাচন কমিশনের কিছুই করার নেই। 

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, সংসদ সদস্যকে বহিষ্কারের দলীয় চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কিছু করার নেই। এ বিষয়ে স্পিকার রেফার করলে ‘ডিসপিউট (বিতর্ক)’ নিয়ে পর্যালোচনা, শুনানি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে আলোচনায় আসা সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তাঁর সংসদ সদস্য পদ থাকা নিয়ে এরপর আলোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার এ কথা বলেন।

আজ বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি এ কথা বলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে আলোচনায় আসা সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। বিষয়টি ইসিকে জানাবে বলে জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, শুধু দলের বহিষ্কারের চিঠি দিয়ে সংসদ সদস্য পদ থাকা না–থাকার আলোচনা একটা বিতর্কিত বিষয়। সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদ নিয়ে স্পিকার বা জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স বা চিঠি পেলে আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যের অযোগ্যতার বিষয়ে স্পিকারের রেফারেন্সের কথাও এ সময় তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনার।

গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। প্রথম দিকে জামায়াতের অনেক নেতা–কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেন।

তবে পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেয় এবং ঘটনার আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করে। পরে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রে জমা দেয়। ওই প্রতিবেদন গতকাল বুধবার দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে আলোচনার পর গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।

তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে, গাজী নজরুল বিয়ের আগে ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ‘পর্দা লঙ্ঘন’ করেছেন। তা ছাড়া এ ঘটনায় সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু রুকনিয়্যত বা রুকন পদ বাতিল করে এত বড় ক্ষতি লাঘব হবে না বলেই তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জামায়াতের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী তাঁর আত্মীয়। তিনি ঢাকায় এলে মাঝেমধ্যে ওই আত্মীয়ের বাসায় উঠতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *